উগান্ডার ভরসা শহীদ আফ্রিদির ভাতিজা ইরফান আফ্রিদি

0
163

উগান্ডার নাম হয়তো অনেকেই কম-বেশি শুনে থাকবেন। কিন্তু আফ্রিকার এই দেশটি যে ক্রিকেট খেলে, সেটা অনেকের কাছে ছিল অজানা। সেই উগান্ডার কোনো ক্রিকেটারকে তো তেমন কারো চেনার কথাই না। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, উগান্ডার জার্সিতে খেলেই সুখ্যাতি কুড়াচ্ছেন ইরফান আফ্রিদি নামে এক ক্রিকেটার।

পারফরম্যান্সের সুবাদে যতটা না খ্যাতি এসেছে, তার চেয়ে বেশি এসেছে চাচা শহীদ আফ্রিদির কল্যাণে। শুনতে অবাক মনে হলেও উগান্ডার জার্সিতে দেশটির ক্রিকেট অঙ্গন রীতিমতো মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন আফ্রিদির ভাতিজা ইরফান আফ্রিদি। শুধু তাই নয়, উগান্ডা জাতীয় ক্রিকেট দলে ভরসার অন্যতম নাম ৩৩ বছর বয়সী এই স্পিনার।

২০১৩ সালে ২৮ বছর বয়সে উগান্ডায় পাড়ি জমান ইরফান আফ্রিদি। এর তিন বছর পর ২০১৬ সালে কাতারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আফ্রিকান দেশটির জার্সিতে ক্রিকেটে অভিষেক হয়। অথচ উগান্ডায় পাড়ি জমানোর আগে ইরফানের ক্রিকেট খেলার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। চাচা বিশ্বসেরা তারকাদের একজন হলেও ৩৩ বছর বয়সী ইরফান পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে পর্যন্ত খেলেননি কোনোদিন।

ইরফানের জন্ম, বেড়ে ওঠা সবকিছুই পাকিস্তানের করাচিতে। মজার ব্যাপার হলো, উগান্ডায় মূলত ব্যবসা করতে গিয়েছিলেন ইরফান। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে থাকতেন তিনি। সেখানে ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্যবসা করতেন। আজও হয়তো দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকতেন, যদি তার চাচা মুশতাক আফ্রিদি (শহীদ আফ্রিদির ছোট ভাই) উগান্ডায় ব্যবসা করতে না চাইতেন।

শুধু বোলিং নয়, চাচার মতো ব্যাট হাতেও বেশ কার্যকর ইরফান। ছবি: সংগৃহীত
ইরফানের ভাষ্য, ‘চাচা উগান্ডায় ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন। আর তাই আমাকে উগান্ডা যেতে বলেন। তিনি আমাকে উগান্ডা পাঠান। আমরা এখানে মোটরগাড়ি আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা শুরু করি। হার্ড-বলে (ক্রিকেট বল) ক্রিকেট খেলার শুরুটা হয় এখানে। তার আগে আমি কখনো হার্ড-বলে ক্রিকেট খেলিনি।’

ইরফান ক্রিকেট খেলেছেন টেপ টেনিস বলে। কিন্তু হার্ড-বলে ভীষণ ভয় থাকায় ভবিষ্যতে ক্রিকেটার হওয়ার কোনো ভাবনাই ছিল না তার। কিন্তু উগান্ডায় শখের বশে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বল হাতে নেন ইরফান। বল হাতে নিয়েই দেখলেন চাচার মতো গুগলি বলটা ভালোই ছুঁড়তে পারেন!

শখের বশে বল করতে গিয়েই উগান্ডার সাবেক পেসার আসাদু সেইগার চোখে পড়েন ইরফান। ক্রিকেট বলে যে ভীতিটা ছিল ইরফানের, সেইগার হাত ধরে সেটাও কাটিয়ে ওঠেন। এরপর ক্রিকেট খেলে গেছেন নিয়মিত। ক্লাব ক্রিকেটে খেলতে খেলতে ডাক পেয়েছেন উগান্ডা জাতীয় দলেও।

২০১৬ সালে ৩১ বছর বয়সে উগান্ডার হলুদ জার্সি গায়ে ওঠে ইরফানের। দুই বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললেও চলতি বছর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগের ডিভিশন ফোরে নিজের জাত চেনান এই স্পিনার।

ওই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৫ উইকেট নেন ইরফান। তার স্পিন বৈচিত্র্যেই টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে উগান্ডা। শুধু বোলিং নয়, চাচার মতো ব্যাট হাতেও বেশ কার্যকরী ইরফান। উগান্ডার হয়ে ৭১ বলে ১০৮ এবং ১৭ বলে ৫১ রানের মতো ম্যাচ জেতানো ইনিংস আছে তার।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here