গল্পঃ অটো চক্র FH Shishir

0
75

দুপুর ২.৩০ মিনিট। মাত্র সেদিন কেনা নিজের চকচকে অটোতে (ব্যাটারিচালিত) বসে আছে সাদেক। অপেক্ষায় আছে যাত্রীর। এই কড়া রোদে তেমন প্যাসেঞ্জার পাওয়া যায় না। আশে পাশে লোকজনও তেমন থাকেনা। রাস্তার পাশের দোকানদার রা যে যার বাসায় গেছে দুপুরের খাবার খেতে, অনেকেই ভাত-ঘুম দিচ্ছে হয়তো। সে বাসায় যেতে চায় কিন্তু খালি গাড়ি নিয়ে যাওয়ার থেকে অপেক্ষায় আছে যদি কোন প্যাসেঞ্জার পাওয়া যায় এই আশায়। বাসায় আবার ওর স্ত্রীর কোন এক আত্মীয় আসবে বিকেলের দিকে যে আবার এর আগে কখনো আসেনি। তাই বাসায় ফেরার পথে একটা মুরগী কিনে নিয়ে যাবে এটাই ভাবছিলো সে। এসব ভাবতে ভাবতেই দুইজন প্যাসেঞ্জার মিলে গেলো ওর। যাক অন্তত খালি গাড়ি নিয়ে বাসায় যাওয়া লাগবেনা। সে খুশিমনে গাড়ি স্টার্ট দিলো। কিছুদুর যাবার পর এক জায়গায় হাত দিয়ে ইশারা করে এক লোক থামালো ওকে। সে ভাবলো হয়তো আরেকজন যাত্রী পাওয়া গেলো। লোকটা কাছে এসে মুখ নিচু করে সাদেক কে বললো, – ভাই! আমার অটোডার চাবি হারাইয়া ফেলসি কই জানি, খুঁইজা পাইতেছি না। আপনের গাড়ির চাবিডা দিবেন, একটু চেক কইরা দেখতাম লাগে কিনা? – আমার গাড়ির চাবি আপনের গাড়িত হইবো? – আরে হইবো, হইবো! আমাগো সব ব্যাটারীওয়ালা গাড়ির তালা আর চাবি একই। – কই আপনের গাড়ি? লোকটা হাতের ইশারা করে বললো, “ওই যে ওই ঘরডার পিছনেই আছে!” সাদেক নিজের গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে চাবি খুলে লোকটা কে দিয়ে বললো, “তাড়াতাড়ি কইরেন ভাই। প্যাসেঞ্জার আছে গাড়িত।” লোকটা “আইচ্ছা, এক্ষুনি আইতাছি!” বলে চাবি নিয়ে ঘরটার দিকে গেলো। দুই মিনিট গেলো, পাঁচ মিনিট গেলো…কিন্তু লোকটা আর চাবি নিয়ে আসেনা। সাদেক উশখুশ শুরু করে দিছে ইতোমধ্যেই। আরো পাঁচ মিনিট যাবার পর পেছনের প্যাসেঞ্জার দের মধ্যে বিরক্তি দেখা গেলো। তাদের কি কাজ আছে, কোথায় যাওয়া লাগবে এসব আলোচনা শুরু করে দিছে। এরপর প্রায় আরো দশ মিনিট গেলো, কিন্তু লোক আর আসেনা। শেষে পেছনের প্যাসেঞ্জার রা বিরক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গিয়ে সাদেক কে বললো, – ভাই আপনে একটু আগাইয়া যাইয়া দেখেন তো লোকটা কই গেলো! চাবিডা লইয়া আসেন। আর কতক্ষণ বই থাকমু? – গাড়ি এইখানে থুইয়া যামু? – আরে আমরা দুইজন আছি তো বইসা, আর ভাল্লাগতেছেনা, দুপুরে এখনো খাইনাই। সাদেক গাড়ি থেকে বের হলো। লোকটা যে ঘরের দিকে গেছিলো সেও ওদিকে হাঁটা দিলো। ঘরের পাশে এসে পেছনে উঁকি দিলো। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলো না। এমনকি কোন অটোও নাই সেখানে। একটা চিন্তা মাথায় আসার সাথে সাথে রাস্তার দিকে তাকালো। যা দেখলো তা ওর ভাবনারও অতীত ছিলো! সেই লোকটা কোথাথেকে এসে ওর গাড়িতে, ওর ড্রাইভারের সিটে বসে আছে। এবং ওর কাছ থেকে নেয়া চাবিটা দিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ইতোমধ্যেই টান দিয়ে দিয়েছে! সে “ওইইইই….” বলে এক চিৎকার দিয়ে রাস্তার দিকে দৌড় দিলো। কিন্তু লোকটা ফুল স্পিডে টান দিয়েছে গাড়ি। সে কিছুক্ষণ প্রাণপণ দৌড় দিলো গাড়ির পিছনে…কিন্তু পেরে উঠলো না। আশেপাশে কোন লোকজনও নাই যে চিৎকার দিয়ে সাহায্য চাইবে। ঠিক সে সময়ে ওর প্যাসেঞ্জার গুলার কথা মনে পরলো। ওর বুঝতে বাকি রইলো না যে ওই দুইজন প্যাসেঞ্জারও একই গ্রুপের লোক! ** বিকেলের একটু আগে রাস্তার পাশে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে সাদেক। অনেক খুঁজেছে এদিক ওদিক, কিন্তু গাড়িটা নিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে যেন লোকগুলা। এখন মাথায় ওর নানান চিন্তা। চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে অনর্গল। সে গরীব মানুষ, ব্যাংক থেকে এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে আর নিজের তিলেতিলে জমানো পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে গাড়িটা কিনেছিলো। মাত্র কয়দিন হলো গাড়িটা কেনা! এখন সে কি করবে! ব্যাংকের টাকা কিভাবে শোধ করবে! এই কয়দিন চলবেই বা কিভাবে! শেষ কবে সে কেঁদেছে ওর মনে নাই, কিন্তু গাড়িটাই ওর শেষ সম্বল ছিল যা হারানোয় নিজের চোখের জল আর ধরে রাখতে পারছেনা সে। দূর থেকে একটা অটো আসতে দেখলো সে। হাত দিয়ে চোখ মুছলো। ফাঁকা গাড়িটা কাছে আসলে হাত নেড়ে থামালো। বললো, – ভাই! পুঠিয়া যাবেন? – হ ভাই! আমিও ওইদিকেই যাচ্ছি। উঠেন। সাদেক আরেকবার চোখ মুছে পেছনে উঠে বসলো। ওর মাথায় আবারো হাজারো চিন্তা ঘুরপাক খাওয়া শুরু করলো। সে ওর সংসার কিভাবে চালাবে এখন? ওর অসুস্থ মা, স্কুলে যাওয়া ছেলেমেয়ে আছে! সব চেয়ে বেশি চিন্তা হচ্ছে ওর ব্যাংকের ঋণ টা নিয়ে। সে কিভাবে এতগুলা টাকা শোধ করবে! একমাত্র ওই গাড়িটাই ওর জীবিকা নির্বাহের উপায় ছিলো। ভালোই রোজগার হচ্ছিলো। সে অনেক দিন পর হয়তো সুখের মুখ দেখতে যাচ্ছিলো…কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেলো…বাসায় গিয়ে সে কি বলবে সবাইকে? সে আর ভাবতে পারছে না। হঠাৎই একটা চিন্তা ওর মাথায় খেলে গেলো। চিন্তা টা নিয়ে কিছুক্ষণ দোটানায় ভুগলো। কিন্তু শেষে মনস্থির করে চালককে অটো টা থামাতে বললো। গাড়ি থামালে সে চালকের পাশের সিটে এসে বসলো। বললো, “পিছনে বাতাস লাগতিছে না।” তারপর চালক গাড়িটা স্টার্ট দিলো। বসতি এলাকা ছেড়ে ফাঁকা বিল এলাকা দিয়ে গাড়িটা যাবার সময় সাদেক গাড়িটা থামাতে বললো। বললো যে “হালকা মুত চাপছে!” চালক গাড়িটা স্লো করতেই গায়ের জোড়ে একটা ধাক্কা দিলো তাকে। চালক অবাক চোখে টালমাটাল হয়ে ডান দিকে হেলে গেলো। তারপর কষে এক লাত্থি মেরে চালক কে গাড়ি থেকে ফেলে দিলো সে। আর এক নিমিষে গাড়ির গতি বাড়িয়ে সামনের দিকে টান দিলো সাদেক। **** সাদেকের ভাগ্য ভাল যে বাসায় আসার সময় পরিচিত কেউ তেমন চোখে পরেনি ওর যারা ওর গাড়িটা নিয়ে সন্দেহ বা প্রশ্ন করতে পারতো। তবে ওর চিন্তা হচ্ছে বাসা নিয়ে যেখানে ওর স্ত্রী, বাচ্চারা জিজ্ঞেস করতে পারে এই গাড়িটার ব্যাপারে। এমনকি ওর মনে খচখচ করছে এই অন্যায় টা করার ব্যাপারে। পরক্ষণে সে চিন্তা টা দূর করে দিলো এটা বলে যে ওর সাথেও যে চিটারী হয়েছে তা সে পুরন করেছে আরেকটা চিটারী করে। কাটাকাটি। সে জলদি গাড়িটা নিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকলো। এবং তার আশংকাই ঠিক হলো। ওর স্ত্রী ওর গাড়িটা দেখে চোখ কুঁচকে ওকে জিজ্ঞেস করলো, – এইডা কার গাড়ি? তুমার গাড়ি কতি? – এইডা ওই ফারুইক্কার গাড়ি, সে আমার গাড়িডা নিছে চালাইতে, নয়া গাড়ি চালানির শখ জাগিছে শালার তাই। – অও….ত মুরগী কতি? আমার চাচতো ভাই আসবি কইছিলাম না আইজ বিকালে? – অহ হো বউ, মনে নাই … – মনে তুমার থাকে কি? আমারেও দেখা যাইবো কয়দিন পর ভুইলা যাইবা। – আইচ্ছা রাইতে আনমুনি মুরগী আগেভাগে…এহন গুসল করমু, গামছাডা দেও… সাদেক গামছা নিয়ে গোসল করতে যায় টিউবওয়েল এ। মনে ওর নানা চিন্তা। কিভাবে গাড়িটার ব্যাপারে সবার সন্দেহ দূর করবে সে! হঠাৎই ওর মাথায় একটা বুদ্ধি আসে। সে রঙ করবে গাড়িটাকে। ওর আগের গাড়ির যে রঙ করা ছিলো সেরকম রঙ করবে এই গাড়িটার যাতে কেউ সহজে আঁচ করতে না পারে। এসব চিন্তা করতে করতে ওর অনেকক্ষণ লেগে যায় গোসল করতে। গোসল শেষে সে গামছা কাঁধে নিয়ে বের হয়। বের হওয়ার পর ওর চোখ ওর বাসায় ঢোকার রাস্তার দিকে যায়। এবং সেখানে একজন কে দেখতে পায় সে যাকে দেখার চেয়ে জমের মুখ দেখা মনে হয় ওর কাছে ঢেড় ভাল ছিল। লোকটা যে ওর বাসার দিকেই আসছে! সে দ্রত দৌড়িয়ে বারান্দায় এসে জামা কাপড়ের আড়ালে মুখ লুকায়। একটা শার্ট পরে নেয় দ্রুত। এদিকে ওর স্ত্রী ইতোমধ্যে ওদিকে পৌছে গেছে। স্ত্রী এবার কাছে আসে হন্তদন্ত হয়ে। বলে, – ওই শুনো, আমার চাচতো ভাই আইসা গেছে। কিন্তু হ্যাতে কানতেছে কেন জানি। চলো কথা কইবা। – না না, আমি এখন যাইতে পারমুনা। আমারে জলদি এক্ষুণি ফারুইক্কার গাড়ি ওরে দিয়া আসা লাগবো আর আমারডা নিয়া আসা লাগবো! – ওমা! তো খাইবা না? – না না, আইসা খামুনে। আর তোমার ভাই রে ঘরে বইতে দাও। কও যে রাইতে কথা কমু। – কিন্তু… – যাও জলদি হ্যাতেরে বইতে দাও ঘরে। সে একরকম ঠেলে ওর বউ কে পাঠায় আগন্তুক কে ঘরে ঢোকানোর জন্য। বউ যখন চলে যায় সে দ্রুত পাশের ঘরে গিয়ে গাড়িটা স্টার্ট দেয়। এবং পড়িমরি করে গতি বাড়িয়ে নিজের বাড়ির সীমানা ত্যাগ করে সে। কারন সেই আগন্তুক আর কেউ নয়….এই গাড়িটারই চালক যাকে সে লাথি মেরে গাড়িটা ছিনতাই করেছে ঘন্টা খানেক আগেই। **** গাড়িটা নিয়ে সোজা বানেশ্বর আসছে সাদেক। ওর উদ্দেশ্য হলো কোন ওয়ার্কশপের খোঁজ করা যেখানে সে ওর গাড়িটা রঙ করাতে পারবে এবং একদিনের জন্য অন্তত গাড়িটা সেখানেই লুকিয়ে রাখতে পারবে। একটু খুঁজতেই সে একটা ওয়ার্কশপ পেয়ে গেলো। গাড়িটা ঢুকিয়ে দিলো শপের ভেতরে। স্টার্ট বন্ধ করে গাড়ির চাবিটা লুঙীর গুঁজে রেখে দিলো। এখন শপের লোকের সাথে কথা বলার জন্য এগুতেই হঠাৎ ডান দিকে একটা কিছুর দিকে ওর নজর আটকে গেলো। কাছে এগিয়ে গেলো ভাল করে দেখার জন্য। এবং চেনা জিনিস দেখতে পেয়ে ওর হৃদপিন্ড ধরাক করে লাফ দিলো। এ যে ওর নিজের গাড়িটা, যেটা দুপুর বেলাতে ছিনতাই হয়েছিলো! তারমানে ওই ছিনতাই কারীরা এখানে ওর গাড়ি নিয়ে আসছে লুকোতে বা অন্য কোন রঙ করতে যাতে কেউ আর চিনতে না পারে! ওর মাথায় রাগ চড়ে গেলো যখন সে ওর গাড়ির পেছনের সিটে সেই দুই ছিনতাইকারী প্যাসেঞ্জারের একজন কে শুয়ে ঘুমোতে দেখলো! সে আর কোন চিন্তা করা বাদেই ধাম করে এক লাথি দিলো লোকটাকে। “কুত্তার বাচ্চা! আমার গাড়ি চুরি করোস, শুয়ার!” বলে লোকটার পা জাপটে ধরলো সাদেক। লোকটা হকচকিয়ে ঘুম থেকে উঠে সাদেক কে দেখে সাক্ষাৎ আজরাইল মনে করছে। “ওরে মা রে” বলে চেঁচিয়ে সামনে দিয়ে সাদেকের হাত থেকে ছুটার চেষ্টা করলো। এতে ওর ঘুমের ভেতর আলগা হয়ে যাওয়া লুঙিটা খুলে সাদেকের হাত রয়ে গেলো। আর সে ল্যাঙটা বাবার মত পড়িমরি করে সামনে দিলো ছুট। সাদেকও ওর পেছন পেছন দৌড়ালো…দোকানদারের লোকেরা সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। সাদেক ওদের বললো, “এই শালা চোর, ওরে ধরেন…” কিন্তু লোকেরা সবাই সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো অবাক চোখে। সাদেক শেষে নিজে একাই পেছন নিলো ন্যাংটাবাবার। এদিকে ন্যাংটাবাবা সামনে কিছু মেয়ে আসতে দেখে নিচে হাত দিয়ে ইজ্জত লুকানোর চেষ্টা করলো, এতে তার দৌড়ানোর গতি কিছুটা কমে গেলো এবং সাদেক এসে জাপটে ধরলো ওকে। দুজনেই পরে গেলো রাস্তায়। সাদেক “এইডা ছিনতাইকারী, চোর! এরে মারেন সবাই!” বলে চিৎকার দিচ্ছে কিন্তু পাশে শুধু ওই মেয়েরাই ছিল যারা মজা দেখছিলো দাঁড়িয়ে। একটু পর কে যেন সাদেকের কোমড় জড়িয়ে ধরলো শক্ত হাতে। নিশ্চিত ছিনতাইকারী দলের তিনজনের কেউ হবে ভেবে সাদেক পেছনে তাকালো। যা দেখলো তাতে এবার ওর আত্মারাম খাঁচাছাড়া হবার মত অবস্থা! এ যে ওর স্ত্রীর চাচতো ভাই বা ওর চুরী করা অটোর চালক। কিন্তু এই লোকের তো এখন ওর বাসায় থাকার কথা। (পরে সে জানতে পেরেছিলো তার ওই তথাকথিত শ্যালক বাসায় বসে না থেকে পুলিশের কাছে জিডি করার সিদ্ধান্ত নেয়, এবং বানেশ্বরে এসে দৌড়ানো অবস্থায় সাদেক কে দেখে চিনে ফেলে।) লোকটা সাদেককে গায়ের শক্তিতে চেপে ধরে বলছে, “কে চোর হু? চোর তো তুই! শালা আমার অটো ছিনতাই করছোস! তোর চেহারা আমার ভালা কইরা মনে আছে কুত্তা! দে আমার অটো ফেরত! নাইলে আইজ তোরে আমি কিলাইয়া মাইরা ফালামু আমি” – আমি চোর না ভাই, আর আমি আপনের দুলাভাই! আপনে আমার শালা! – কি কস চোরের বাচ্চা চোর? তুই আমার দুলাভাই? এক ঘুষি দিয়া তোর নাকের চোপা ভাইঙা এক কইরা দিমু! – ভাই ম্যালা কাহিনী হইছে। সব পরে কমু। আসল চোর হইলো এই শালা। এরে ধরেন! – আমারে বুঝ দিতে আইস না। ঠ্যাং ভাইঙ্গা দিমু। জলদি ক আমার অটো কই? – ভাই আমার নাম সাদেক, আমার বউ এর নাম ময়না। আমার বাসা জিউপাড়ায়, আপনে ওর চাচতো ভাই, আইজ বিকালে আমার বাসাত আসার কথা আছিলো আপনের। আমি আপনের দুলাভাই হই সম্পর্কে ভাই। এইবার লোকটা কিছুটা হকচকিয়ে যায়। সাদেককে ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। বলে, “কিন্তু আপনে আমার অটো চুরি করছেন আইজ!” – হ করছি। কারন এই ব্যাডা আমার অটো চুরি করছিলো তাই। আরে ভাই ম্যালা কাহিনী এই ব্যাডারে ধরেন। কিন্তু লোকটা কি করবে বুঝে উঠতে পারছিলো না। আর এদিকে জোড়াজুড়িতে সাদেকের নিজের লুঙ্গি খুলে যাওয়ার মত অবস্থায়। আর ওদিকে মেয়েগুলান এখনো অবাক চোখে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। তাই সাদেক এক হাতে চেষ্টা করলো লুঙিটা ঠিক করার। আর এ সুযোগে একটু আলগা পেয়ে ছিনতাইকারী টা নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দিলো এক দৌড়। এবার আর নিজের লজ্জাস্থানের তোয়াক্কা করলো না। সাদেক “হায়…হায়” করে ওর শ্যালক কে বললো “ভাই ধরেন ওরে…পলাইয়া গেলো!” কিন্তু ওর শ্যালক এখনো বুঝে উঠতে পারছিলো না কাকে ধরবে! ওর দুলাভাই কে নাকি ওই ল্যাংটা লোককে। হঠাৎ করেই সাদেকের ওর অটোগুলার কথা মনে পরে গেলো। সে তার শ্যালক কে বললো, – হইছে, ধরা লাগবিনা ওরে। তয় আমি জানি কই আছে আমাগো অটো। চলেন আমার লগে। – কই রাখছেন আমার অটো? – চলেন, গেলেই দেখতে পাবেন। তারপর দুজন মিলে সেই ওয়ার্কশপে ঢুকলো তারা। সেখানে গিয়ে নিজের অটো দেখেই শ্যালক দৌড় দিলো সেদিকে। সাদেক গেলো নিজের অটোর দিকে। সে এখন মনে মনে অনেক খুশি, আগের রাগটা আর নাই কারন সে তার অটো ফিরে পেয়েছে। এদিকে তার শ্যালক কাছে এসে বললো, “ভাই চাবিডা দেন!” সাদেক এবার লুঙির গুঁজে হাত দিলো। কিন্তু কই? চাবি নাই! ধস্তাধস্তিরর মাঝে হয়তো লুঙী থেকে পরে গেছিলো চাবিটা। আর ওর নিজের অটোর চাবিটাও নাই ওর কাছে। সে নিজের চাবিটা অটোর মাঝে খুঁজলো যদি ছিনতাইকারীর কাছ থেকে পরে গিয়ে থাকে। কিন্তু পেলো না। সে তার শ্যালক কে বললো অটোর কাছে থাকতে। সে গিয়ে ধস্তাধস্তির জায়গায় খুঁজবে যদি তার অটোর চাবিটা পাওয়া যায়। **** আশেপাশে প্রচুর খুঁজলো সাদেক চাবিটা। কিন্তু নাহ পেলো না। এখন সে কি করবে? গাড়ি স্টার্ট দিবে কেমনে? সে যত দ্রুত সম্ভব গাড়িটা ওয়ার্কশপ থেকে বের করতে চায় কারন এই শপের লোকদের ভরসা নাই। তাদের হাত থাকতে পারে ছিনতাইকারীদের সাথে। হয়তো ছিনতাই কারীরাও দলবল নিয়ে আসতে পারে কিছুক্ষণের মধ্যে। ছিনতাই কারীদের কথা ভাবতেই ওর মাথায় একটা কথা মনে পরে গেলো যেটা ওই ছিনতাইকারী চাবিটা নেয়ার সময় বলেছিলো। যে সব অটোর তালা আর চাবী একই। যদিও সে এ বিষয়ে নিশ্চিত নয়। সে রাস্তার দিকে গেলো। একটা চলন্ত অটো দেখে হাত ইশারা দিয়ে থামালো। জাম্বু সাইজের চালকের কাছে গিয়ে বললো, “ভাই! আমার অটোটা ওই ওয়ার্কশপে আছে, কিন্তু চাবি হারাইয়া ফেলসি! আপনের চাবিটা দিবেন? একটু টেস্ট কইরা দেখতাম হয় কিনা!” এবার চালকটা বাঁকা চোখে সাদেকের দিকে তাকালো। চাবি দেয়া তো দূরে থাক, গাড়ি স্টার্ট থাকা অবস্থাতেই সে গাড়ি থেকে বের হলো। তারপর সিটের নিচ থেকে একটা লোহার দন্ড মত বের করলো। সাদেকের কাছে এসে ওর ডান হাত শক্ত করে ধরে বললো, “কুত্তা-শুয়ার! দুই মাস আগে ঠিক এই ভাবে আমার অটো ছিনতাই করছোস! আইজকা আবার আসছোস? তোগো লাইগা এই লুহার পাইপ রাইখা দিসিলাম গাড়িত। আইজকা এইডারে কাজে লাগামু!” সাদেক কিছু বলার আগেই ওর মাথায় ধরাম করে লোহার পাইপের আঘাত লাগে। মনে হলো যেন বিদ্যুতের শক খাইছে। তবে ওর চোখের সামনে সব কিছু অন্ধকার হয়ে যাবার আগে সাদেক দেখতে পেলো এই জাম্বুর অটোর পেছনের ছিটে বসে থাকা একটা লোক লাফ দিয়ে চালকের আসনে বসে গেছে। গাড়িতে টানও দিয়ে দিছে সাথে সাথে। লোকটা আর কেউ নয় সাদেকের কাছ থেকে চাবি নেয়া সেই ছিনতাইকারী যে তার আজকের দ্বিতীয় শিকার পেয়ে গেছে।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here