বাংলা গল্পঃ দুর্ঘটনা!

0
113

লেখাঃ FH Shishir

বাংলা গল্প

নতুন বউ- মা দেন, আমি কাঁথা টা সেলাই করি।

শ্বাশুড়ি- তুমি কাঁথা সেলাই করতে পারো?

– পারিনা কিন্তু আপনার সেলাই করে দেখে মনে হচ্ছে খুব ইজি। নিচ দিয়ে ঢুকিয়ে উপর দিয়ে বের করবো…ব্যাস!

– মা! সব কাজই বাইরে থেকে দেখতে সহজ লাগে কিন্তু কোন কাজই সহজ নয়। তুমি পারবানা।

– আমি পারবো দেন তো…

– আচ্ছা নাও। তবে দেইখো আঙুলে সুঁই ফুটিয়ে দিয়োনা।

– আচ্ছা মা!

নতুন বউ এবার সুঁই টা তার শ্বাশুড়ির মতো করে কাঁথার ভেতরে ঢুকিয়ে দিলো। কিন্তু সমস্যা হলো উপর দিয়ে বের করতে গিয়ে। নিচ দিয়ে জোরে ঠেলা দিলো, সামান্য বের হলো…এবার সুঁই এর উপরের অংশ ধরে টান দিলো, কিন্তু পিছলে গেলো।

নিচ দিয়ে আরেকটু ঠেলা দিলো, সুঁই এর অর্ধেকের বেশি উপরে বের হয়ে আসলো। তবু কিসে যেনো আটকে আছে।

এবার বউ মাথাটা আরেকটু ঝুকে সুঁই এর গোড়ায় হাত দিয়ে উপরে টানা শুরু করলো। বের হচ্ছেনা, কিসে যেন আটকে আছে।

বউ এবার আরেকটু ঝুঁকে সুঁই এর গোড়া ধরে গায়ের জোরে দিলো উপরের দিকে টান। এবার পুরো সুঁই নিমিষে বের হয়ে আসলো, এবং সোজা গিয়ে ঢুকলো ঝুকে থাকা বউ এর চোখে….

২।

বাইরে মসজিদের হুজুর এসে হাজির। রাফসান দের বাসায় গরু কোরবানি দেয়া হবে। রাফসান ওর ছোট ভাই হাসান কে বলছে,

– ওই গরুর কাছে থাকবি আজ, গরুর পা ধরবি।

– পারবোনা। ফ্রেন্ড রা সবাই ডাকছে। ঘুরতে বের হবো।

– জীবনে এসব কাজ শিখবিনা?

– আরো বড় হয়ে নেই, তারপরে শিখবো।

এই বলে বড় ভাই এর পরবর্তি কোন কথা শুনার জন্য অপেক্ষা না করেই হাসান ঘরের ভেতর রওনা দেয়।

গরুকে বাইরে নিয়ে আসা হলো। সবার কাছে কেন জানি গরুকে অতিরিক্ত শান’ত মনে হচ্ছে।

গরুর পা বাঁধা হলো কিন্তু গরু কোন বাধাই দিলোনা। রাফসান এবং আরো কিছু লোক মিলে গরুকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে শোয়ালো। আশ্চর্য ব্যাপার গরু কোন বাধা দেয়ার চেষ্টাই করলো না। রাফসান গরুর সামনের পা ধরলো, বাকি লোক নিচের পা, একজন গরুর মাথা ধরলো।

এ সময় রাফসানের মা চোখে পানি নিয়ে এসে বললো,

– বাবা, বিপদ হয়ে গেছে। তোর বউ এর চোখে সুঁই ঢুকে গেছে।

রাফসান চমকে উঠে ওই অবস্থাতেই বললো,

– সুঁই?? কিভাবে? কি বলছো?

– হ্যা, কাঁথা সেলাই করতে গিয়ে ঢুকিয়ে ফেলেছে!

– ঈদের দিনে কাঁথা সেলাই? কি বলছো এসব?

– হ্যা রে বাবা, সব দোষ আমার, একটু কাজ বাকি ছিলো তাই ভাবছিলাম কাঁথা টা সেরে রাখি…

– আচ্ছা, তুমি যাও, আমি গরু জবাই হওয়ার পর আসতেছি…

রাফসান কাঁপা কাঁপা গলায় হুজুর কে বললো দ্রুত কাজ শুরু করে দেয়ার জন্য। হুজুর ধারালো ছুরিটা আল্লাহু আকবার বলে গরুর গলায় চালালেন।

কথায় আছে মোমবাতি পুরোপুরি নিভে যাবার আগে একবার দপ করে জ্বলে উঠে। তাই হঠাৎ করেই শান’ত গরুটা আচমকা এমন এক ঝাকি দিলো যে, যারা গরু ধরেছিলো একজন আরেকজনের গায়ের উপরে পরলো। হয়তো সবাই শান’ত ভেবে গরু টাকে সেভাবে শক্ত করে ধরে নাই।

কিন্তু চোখের পলকে যেন সব কিছু হয়ে গেলো। হুজুর ঘটনার আকস্মিকতায় শক্ত হাতে ছুরি ধরা অবস্থায় নিজের মোটা শরীর নিয়ে পাশে থাকা রাফসানের উপরে পরলেন।

সাথে সাথে “খ্যাঁচ” করে একটা শব্দ হলো। হুজুর ভীত চোখে দেখলেন তার হাতে শক্ত করে ধরা আছে ধারালো ছুরিটা এবং ছুরির নিচে রাফসানের দ্বিখণ্ডিত মাথা!

৩।

ওদিকে হাসান তার ভাই দের কে ওখানে রেখেই ঘরে চলে আসে। সে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। নিত্য নতুন মডার্ন স্টাইলে সে অভ্যস্ত।

সে ভাবে এই ঈদে কিভাবে নিউ স্টাইল করা যায় অন্য দের তুলনায়। কিভাবে গার্লস দের চোখ ওর দিকে ফেরানো যায়!

এসব ভাবতে ভাবতে ওর মাথায় একটা আইডিয়া আসে। নিজেই নিজের আইডিয়ায় হেসে উঠে। হ্যা, সে এই ঈদে উল্টা করে শার্ট পরবে। অর্থাৎ শার্টের বোতাম গুলা থাকবে ওর পেছনে। অনেক মজা হবে।

অনেক কষ্টে পেছন দিক দিয়ে শার্টের বোতাম গুলা লাগায় সে। তারপর বের হয়ে যায়। বের হতে গিয়ে দেখে ওর ভাই এবং লোকজন মিলে গরুর পা দড়ি দিয়ে বাঁধছে।

সে রাস্তায় এসে পরে। কানে হেডফোন ঢুকায়। সাউন্ড বাড়িয়ে দেয়। রাস্তায় এই ঈদের দিনেও গাড়ি চলছে হাল্কা পাতলা।

কিছুদূর যাবার পরে ওর ফোনে কল আসে বাসা থেকে। ফোন রিসিভ করেই ওর চেহারা বদলে যায়। কান্নায় ফেঁটে আসে চোখ। ওর ভাই মারা গেছে।

সে দ্রুত ঘুরে দৌড় লাগায়। কিন্তু চোখের জলে সামনের অংশ টা ওর কাছে ঝাপসা হয়ে থাকে।

এবং একটা সিএনজি এসে ধাক্কা দিয়ে যায় হাসান কে। উল্টা হয়ে পরে যায় রাস্তায়, জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

আশেপাশে লোকজন জমা হয়।

– হায় হায়! ঈদের দিনে এক্সিডেন্ট করছে রে…

– এই পুলা কে? কেউ চিনো?

– ওই সিএনজি ডারে কেউ থামা, দৌড় দে ওর পিছনে। হালার পুত রে পুলিশে দিমু।

– মইরা গেছে নাকি পুলায়?

– ওই কেউ দেখেন না কেন ছেলে বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে?

– হাসপাতালে নেন, গাড়ি থামান কেউ একটা।

– হায় হায়, এই ছেলের ঘাড় মটকে ঘুরে গেছে। দেখেন…

– আরে তাইতো… হায় হায়…((হাসানের বুকে (পিঠে) মাথা দিয়ে)) আরে পুলা বাঁইচা আছে…

– কি কন? ঘাড় মটকানির পরেও বাঁইচা আছে?? হায় হায়…তয় ঘাড় ঠিক না করলে এই পুলা বেশিক্ষণ বাঁইচবোনা আমার মনে হয়।

– আসেন আমরা ঘাড় ডা ঠিক কইরা দেই জায়গামতো।

– কেমনে?

– আপনে পুলার কাঁধ শক্ত কইরা ধরেন…

– আইচ্ছা ধরলাম…

– এইবার দেখেন কেমনে আমি ঠিক করি।

অতঃপর লোকটা হাসানের মাথা ধরে ডান দিকে গায়ের জোরে #মোচড় দিলো।

এবং “মট” করে একটা শব্দ হয়ে হাসানের মাথা ওর জামার বোতামের দিকে চলে আসলো।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here