শিষ্টুর রচিত রস By FH Shishir

0
82

আমার ঘরের পাশেই বেলকুনি। এই বেলকুনি তে আবার গ্রামের আন্ডা বাচ্চাদের আনাগোনা বেশি। যখনই সুযোগ পায় এসে নানা রকমের খেলাধুলা শুরু করে দেয়। এরা আন্ডা বাচ্চা হলে হবে কি সব গুলা ট্যাটন। মানে জানেনা অথচ প্রচুর গালি জানে এরা, টিভিতে ছবি দেখে সেয়ানাও হয়ে গেছে অনেক খানি। 

তো পড়তেছিলাম এসময় শুনতে পেলাম পিচ্চি কণ্ঠ। জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে দেখি একটা পিচ্চি পুলা আর মাইয়া। সামনে পরীক্ষা তাই বেলকুনি তে ক্যাঁচরম্যাচর শুনলেই দাবড়ানি দেই। এদেরকেও দিবো ভাবতেছিলাম কিন্তু শুনলাম বদমাইশ পুলাটা মেয়েরে বলতেছে “তাইলে ল শুরু করি বর-বউ খেলা” 

এইটা আবার কি রকমের খেলা দেখার খুব শখ হলো। তাই জানালার ফাঁক দিয়ে আড়ালে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম। 

পুচ্চি মেয়ে- ওই শুন, আমি যহন গান গাইমু তহন তুই এই গেট দিয়া ঢুকবি। 

পিচ্চি পুলা – আইচ্ছা। 

ছেলেটা এবার বেলকুনির বাইরে গেলো। 

তবে মেয়েটার কাজ দেখে টাশকি খাইলাম। 

সে কোমড়ের গুঁজ থেকে একটা কয়লার দন্ড বের করলো যেটা ব্যাটারি তে থাকে আর কি। তারপর বাম হাত মুখের সামনে আয়নার মত করে ধরলো আর ডান হাতে কয়লার দন্ড টা দিয়ে ঠোঁটে লিপস্টিক দেয়ার মত করে দিলো। 
তারপর হাত দিয়ে চিড়ুনির মত করে চুল আঁচড়াল। 

ওদিকে পিচ্চি ছেলেটা বলছে, “কিরে আমি কি আসমু এহন?” 

– হুরর শালা, আমি তো কেবল সাজতিছি। গান গাইতে লাগলে আসবু, আর আমারে তুমি কইরা কবু। 

ছেলেটা ভ্যাবলার মত কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো তখন। 

একটু পর মেয়েটা এদিক ওদিক তাকিয়ে গান শুরু করলো, “সে যে কেন আসতিছে না, কিচ্ছু ভাল লাগতিছে না…এইবার আসুক খালি…” 

পিচ্চি পুলা এবার লাফ দিয়ে বেলকুনি তে উঠে বলে, “বউ আমি আইসা গেছি। খাওন দে” 

পিচ্চি মাইয়া- ওই তুমি কইরা ক। 

– থুক্কু…বউ আমি আইসা গেছি, ভাত দাও। 

– না, তোর… (সাথে সাথে সামলে নিয়ে বলে)… তোমার আইজ কুনো খাওন নাই। এত দেরী করলে কেন? 

– আরে জানোনা বউ অপিসে কত কাম…মাটি কাটা লাগিছে, ধান কাটা লাগিছে… 

এই যায়গায় আমি হো হো করে হাসতে গিয়াও সামলে নিছি। অফিসে কেউ ধান কাটতে যায়, মাটি কাটতে যায় প্রথম শুনছি। 

“ইশ রে আমার পরানের ভাতার ডা রে…আসো তোমার ঘাম মুইছা দেই” বলে মেয়েটা তার জামার কোনা দিয়ে ছেলের ঘাম মুছে দিতে যায়, কিন্তু বহু কসরত করেও জামাটা ছেলের কপাল অবদি নিতে পারেনা। শেষে ছেলে নিজেই মাথা নিচু করে কপাল টা এগিয়ে দেয়। 

পুলা- বউ তুমার লাইগা একখান জিনিস আনছি। 

মাইয়া- কি আনছো গো? 

– এই দেখো পাক্কা আম। 

– ওমা, কত্ত সুন্দর। সত্যি কইরা কও স্বামী এইডা তুমি চুরী করো নাই তো? 

– খোদার কসম, আমি এইডা ইরার নানীর আম বাগানে পইরা পাইছি। 

অতঃপর মেয়েটা আম টা ছিললো। তারপর ছেলেটাকে বললো, 

– নে….নাও স্বামী, তুমি আগে খাও। 

– না বউ এইডা তুমার লাইগা আনছি আমি তুমি আগে খাও। আমারে আঁটি খান দিস। 

মেয়েটা এবার আমে কামড় দেয়। কামড় দিয়েই চোখ মুখ বুঁজে “ইইইইইইই….” করে উঠে। 

পুলা- কিরে মিষ্টি না? 

মাইয়া- তুর বা* মিষ্টি কুত্তা। এমুন টেংগার টেংগা, এই আম বাঘের পা*ায় দিলে বাঘ আব্বাগো, আম্মাগো কইয়া দৌড় লাগাইবো। 

এইবার আর শব্দ না করে হেসে পারিনি। আমার হাসি শুনে ওরা চমকে উঠে। কিছুটা যেন লজ্জাও পাইছে মনে হলো। 

মেয়েটা ছেলেটার হাত টান দিয়ে দৌড় দেয়, আর যেতে যেতে বলে, “ওই পালা পালা, গুন্ডা মিশা আইছে, আমার ইজ্জত #লষ্ট করবে…পালা পালা…”

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here